সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
একুশের কণ্ঠ প্রতিবেদন:: গুমকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ পাস করেছে জাতীয় সংসদ। নতুন আইনে গুমের সাধারণ অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। একই দিনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬-ও পাস করা হয়।
পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার অবস্থান অস্বীকার করা বা গোপন রাখাকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ ধরনের অপরাধের সাধারণ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।
আইনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ফান্ড গঠনের সুযোগ এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থাও থাকছে।
গুমের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।
এদিকে ২০০৯ সালের আইন রহিত করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬ পাস করা হয়েছে। নতুন আইনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিশনে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাখার বিধান রয়েছে।
কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এর কিছু বিধানের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিলে দ্বিমুখী নীতি রাখা হয়েছে। সাধারণ নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আগে নোটিশ দিয়ে জবাব চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বিলটির সমালোচনা করেন। পরে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই জোরপূর্বক গুম মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি আলোচিত ইস্যু। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকে।